‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ চালানোর অভিযোগে চার গণতন্ত্র কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
সোমবার (২৫ জুলাই) দেশটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে মৃত্যুদণ্ডের খবর জানানো হয়। তবে কবে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে সেটি বলা হয়নি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের ছায়া সরকার হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার এই রায়ের নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এনইউজি নিজেদের মিয়ানমারের ছায়া সরকার হিসেবে দাবি করলেও ক্ষমতাসীন জান্তা তাদের অবৈধ ঘোষণা করেছে।
এনইউজির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র কিয়াও ঝাও রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা গভীরভাবে দুঃখিত এবং এই বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই বর্বরতার শাস্তি দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি।’
গ্লোবাল নিউ লাইট অফ মিয়ানমারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন গণতন্ত্র ব্যক্তিত্ব কিয়াও মিন ইউ , যিনি জিমি নামেই বেশি পরিচিত এবং সাবেক আইন প্রণেতা ও হিপহপ শিল্পী ফিও জেয়া থাও। কিয়াও মিন ইউ (৫৩) এবং মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা অং সান সু চি'র ৪১ বছর বয়সী মিত্র ফিও জেয়া থাও জুনে সাজার বিরুদ্ধে করা আপিলে হেরে যান।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুজন হ্লা মিও অং এবং অং থুরা জাও।
এই ঘটনার পর মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুস বিবৃতিতে বলেছেন, `মিয়ানমারের দেশপ্রেমিক এবং মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়নদের ফাঁসি কার্যকর করার খবরে আমি ক্ষুব্ধ ও বিধ্বস্ত। আমার হৃদয় পড়ে আছে নৃশংসতার শিকার হওয়া সেই সব পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয়জনদের কাছে। এই নিকৃষ্ট কাজগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে।’
ফিও জেয়া থাউয়ের স্ত্রী থাজিন ন্যুন্ট অং জানান, তাকে তার স্বামীর মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে জানানো হয়নি বা অন্য আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি।
এ ঘটনা সম্পর্কে আরেকটি সূত্রে রয়টার্সকে জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের বন্দী করা হয়েছিল গত শুক্রবার। তাদের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়েছিলেন এবং জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শুধুমাত্র একজন আত্মীয়কে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়।
সোমবার (২৫ জুলাই) মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এবং জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন পরে ভয়েস অফ মিয়ানমারকে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু কবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এএপিপি নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন বলছে, মিয়ানমারের শেষ বিচারিক মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল ১৯৮০ সালের শেষ দিকে।